Home / প্রেস রিলিজ / একটিও সংবাদ সম্মেলন না করা প্রথম প্রধানমন্ত্রী মোদী

একটিও সংবাদ সম্মেলন না করা প্রথম প্রধানমন্ত্রী মোদী

স্বাধীনতার পর গণতান্ত্রিক ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন নরেন্দ্র মোদী, যিনি সরকারের মেয়াদকালে একটিও সংবাদ সম্মেলন করেননি৷ এদিকে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরনো প্রকল্প নতুন করে উদ্বোধন করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে৷

Narendra Modi (picture-alliance/dpa/TASS/M. Metzel)
মোদীর সরকারের অবশিষ্ট মেয়াদকাল আর মাত্র আড়াই মাস৷ এরমধ্যে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে সামনে আসবেন বলে মনে করছেন না রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা৷

শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টির নেতাদের সঙ্গে সাংবাদিকদের সখ্যতা সেই শুরু থেকেই৷ কিন্তু, ওসবের ধার ধারেন না মোদী৷ সরকারের শীর্ষে থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হওয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ধাতে নেই৷ বরং তা এড়িয়েই চলেন তিনি৷ গত ৫ বছরে একটিও সাংবাদিক সম্মেলন করেননি তিনি৷ তবে, মাঝেমধ্যে পছন্দের সংবাদপত্র বা টেলিভিশন চ্যানেলে ‘‌সাজানো’‌ প্রশ্নের জবাব দিতে দেখা গেছে তাঁকে৷

View image on Twitter
View image on Twitter

Alka
@AlkaMaverick
Modi’s foreign trip bill – Rs.2021crores…
The Accidental Tourist!!

  • The Telegraph

67
3:43 PM – Dec 29, 2018
47 people are talking about this
Twitter Ads info and privacy
মৌন মোদী

গত পাঁচ বছরে কর্মসংস্থান, কৃষক দুর্দশা, গো-‌রক্ষা, দলিত নিপীড়ন, গণপিটুনির মতো বিষয়গুলিতে মুখে কুলুপ এঁটে থেকেছেন মোদী৷ নোটবন্দি, পণ্য ও পরিসেবা কর, হালের সীমান্তে উত্তেজনার ইস্যুতেও সংসাদমাধ্যমকে এড়িয়ে চলেছেন মোদী৷ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে কার্যত দেউলিয়া করে পগার পার হওয়া মেহুল চোকসি, বিজয় মালিয়া ও নীরব মোদীদের নিয়েও ‘নীরব’ থেকেছেন তিনি৷ এজন্য তাঁকে ‘‌‌মৌন মোদী’ আখ্যা দিয়েছে বিরোধী শিবির৷ অথচ, সরকারি হোক বা দলীয়, জনসভায় বরাবরই গলা চড়াতে পছন্দ করেন নরেন্দ্র মোদী৷

২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর আজ অবধি একটিও সাংবাদিক সম্মেলন করেননি মোদী৷ কয়েক বছর আগেও যাঁকে ‘‌মৌন ‌মোহন সিং’‌‌ বলে কটাক্ষ করা হত, সেই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বছরে অন্তত দু-‌বার সাংবাদিক সম্মেলন করতেন৷ এমনকি তাঁর বিদেশ সফরে সঙ্গী হতেন সাংবাদিকরা৷ বিমানে সংবাদমাধ্যমকে নিয়মিত সাক্ষাৎকার দিতেন তিনি৷

এ পর্যন্ত ৪০ বার বিদেশ সফর করেছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ কিন্তু সঙ্গে নেননি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে৷ প্রথা ছিল, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের বিমান মাশুল দিত সরকার৷ কিন্তু, বিদেশে সাংবাদিকদের থাকা-‌খাওয়ার বন্দোবস্ত করতে হত নিজেদের খরচে৷ মোদী ক্ষমতায় এসে সে সব বন্ধ করেছেন৷ যদিও এই বিষয়ে সরকারের বক্তব্য, ‘‌‘‌জনগণের করের অর্থ অপচয় রুখতেই এমনটা করা হয়েছে৷’’

অডিও শুনুন 04:31
মিডিয়ায় মোদীর সমালোচনা শোনা যায় কিন্তু বিরোধী নেতাদের দুর্নীতি, কেলেঙ্কারি নিয়ে চুপ :সুগত হাজরা
কিন্তু, নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী গুটিকতক সাংবাদিক সরকারের কর্মকাণ্ড নিজের চোখে দেখে সংবাদ পরিবেশন করতেন৷ অনেক ক্ষেত্রে সরকারের সমালোচনাও করতেন৷ সরকারের মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ আমলাদের সঙ্গে কথোপকথনের সুযোগ মেলার ফলে বহু অজানা তথ্য প্রকাশ পেত৷ ‘‌ব্যয় কমানো’র অজুহাতে সেসব বন্ধ করা ঠিক কতটা যুক্তিগ্রাহ্য?‌ একি সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলা নয়?‌ প্রশ্নের মুখোমুখি হতে ভয় পাওয়া নয়?‌‌

বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর এই অনভিপ্রেত নীরবতা নিয়ে মুখ খুলেছেন মনমোহনও৷ ‌বলেছেন, ‘‌‘‌আমি কখনও ‌সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে ভয় পেতাম না৷ মুখ খোলার জন্য উনি (‌মোদী)‌ আমাকে যে উপদেশ দিতেন, এখন সেটা ওঁর নিজের ওপর প্রয়োগ করে দেখানো উচিত৷’‌’‌‌ সম্প্রতি নিজের লেখা ‘‌চেঞ্জিং ইন্ডিয়া’ বইয়ে লিখেওছেন সেকথা৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুগত হাজরা ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ‘‌‘‌মিডিয়ার এই দশার জন্য দায়ী ভারতীয় মিডিয়াই৷ কারণ, রাহুল গান্ধী বা বিরোধী নেতাদের পেছনে ফেলে দিয়ে একতরফাভাবে মোদীর সমালোচনা শোনা যায়৷ অথচ বিরোধী নেতা-‌নেত্রীদের দুর্নীতি, কেলেঙ্কারি নিয়ে চুপ থাকে মিডিয়া৷ সরকারি খরচে সাংবাদিকরা বিদেশে গিয়ে কোনো চাঞ্চল্যকর সংবাদ পরিবেশন করেছেন, এমনটা শোনা যায় না৷ তাই প্রথা অনুযায়ী জনগণের করের টাকায় সাংবাদিকদের বেড়াতে নিয়ে গেলেও কোনো রাজকার্য সিদ্ধ হত ‌না৷’’

কয়েক দশক ধরে সাংবাদিকতা করছেন, এমন প্রবীণ সাংবাদিকদের মতে, ‌নরেন্দ্র মোদী আসলে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করেছেন অত্যন্ত সুকৌশলে৷ জাতীয় সংবাদমাধ্যম তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পায় না৷ অন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরাও সাংবাদিকদের প্রশ্ন এড়িয়ে যেতে পছন্দ করেন৷‌

অভিযোগ, দেশে ‘‌প্রেস ইনফর্মেশন ব্যুরো’ স্বীকৃত সাংবাদিকরা যে-কোনো মন্ত্রণালয়ে অবাধ যাতায়াত করতে পারতেন৷ এখন তা-‌ও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে৷ আগাম জানাতে হয়, কোন আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করতে চান৷ ফলে, স্বভাবতই সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলছেন আমলারাও৷ সমূলে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে সাংবাদিককূলের চিরপরিচিত ‘‌সোর্স’৷

একাধিক প্রবীণ সাংবাদিক জানিয়েছেন, ‌ মোদীর আগে সব প্রধানমন্ত্রী (‌অটলবিহারী বাজপেয়ীও)‌ একজন ‘‌মিডিয়া উপদেষ্টা’ নিয়োগ করতেন৷ ‌এখন তা-‌ও নেই৷ সংসদের সেন্ট্রাল হলে, যেখানে সাংবাদিকরা মন্ত্রী ও সাংসদদের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলতেন, সেখানেও একজন নিরাপত্তা আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে৷ তাঁর কাজ হলো, সাংবাদিকদের সঙ্গে কে কে কথা বলছেন, তার তালিকা তৈরি করা৷ এমতাবস্থায় সরকার যা জানাবে তাই জানতে হবে, সরকার যা চাইবে, তাই সংবাদ হিসেবে পরিবেশন করতে হবে – এমন একটি পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলেছে৷ আসলে মোদী স্বতন্ত্র সাংবাদিকতকায় বিশ্বাস করেন না৷

এই প্রসঙ্গে দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় দিল্লিতে কর্মরত জাতীয় সংবাদপত্রের প্রবীণ সাংবাদিক শরদ গুপ্তা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‌‘‌প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্ন পছন্দ করেন না, যা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য মোটেই ভালো নয়৷ তবে, যে-কোনো বিষয়ে মোটেই মৌন থাকেননি মোদী৷ তিনি কোথায়, কখন বলবেন সেটা নিজেই বেছে নিয়েছেন৷’’

ভোটের মুখে প্রকল্পের ছড়াছড়ি

ভারতে লোকসভা নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার আগে মাত্র ৩০ দিনে মোট ১৫৭টি প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ প্রতিদিন গড়ে ৫টি৷ যার মধ্যে রয়েছে জাতীয় সড়ক, মেডিকেল কলেজ, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, গ্যাসের পাইপলাইন, বিমানবন্দর, বিদ্যুৎ এবং নিকাশি-‌সহ বহু প্রকল্প৷ এসবের বেশিরভাগই পুরনো, অর্থাৎ, হয় চালু হয়েছে, নয়তো চালু হওয়ার পথে বা আগেই শিলান্যাস হয়েছে৷

যেমন উত্তরপ্রদেশের আমেঠিতে (‌কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর নির্বাচনি কেন্দ্র)‌ রাশিয়ার সহায়তায় অত্যাধুনিক এ কে-২০৩ রাইফেল তৈরির কারখানার উদ্বোধন করেছেন মোদী৷ কিন্তু এই প্রকল্পের উদ্বোধন হয়েছিল ২০০৭ সালে৷ ২০১০ সাল থেকে সেখানে কার্বাইন, রাইফেল এবং ইনসাস মেশিনগান তৈরি শুরু হয়েছে৷

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিহারের করমালিচকে একটি নিকাশি প্রকল্পের শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী৷ সেটিও নতুন প্রকল্প নয়৷ ২০১৭-র অক্টোবরেই সেই একই প্রকল্পের অঙ্গ হিসাবে কারমালিচক নিকাশি প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন তিনি৷ অথচ, ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার আগে এইভাবে গুচ্ছ গুচ্ছ প্রকল্প ঘোষণা করেননি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং৷

Embedded video

Dhruv Rathee
@dhruv_rathee
In the last one month, Modi inaugurated 157 projects.

But here’s the Mega Jumla – many of these projects were already launched years ago! Many others were so insignificant that they were at a municipal level 😂

Thank you @SreenivasanJain for daring to show this.

17.2K
1:18 PM – Mar 11, 2019
9,897 people are talking about this
Twitter Ads info and privacy
পুরনো প্রকল্প পুনরায় উদ্বোধন করা ছাড়াও, এমন অনেক প্রকল্পের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর নাম জড়িয়েছে, যা তাঁর পদমর্যাদার সঙ্গে খাপ খায় না৷ কী কী সেগুলি? প্রায় ১৪০টির কাছাকাছি এমন প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন, যা প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদার কোনো ব্যক্তিত্ব উদ্বোধন করছেন, এমনটা ভাবা যায় না৷ সেগুলির মধ্যে রয়েছে চেন্নাই মেট্রোর এক অংশে যাত্রী পরিসেবা চালু৷ কর্ণাটকের চিকজজুর-মায়াকোন্ডা রেললাইনের ডাবলিং৷ তামিলনাড়ুতে ৪ নম্বর জাতীয় সড়কে ছয় লেনের সম্প্রসারণ৷ কিছু প্রকল্পতো স্থানীয় কোনো নেতা উদ্বোধন করার উপযুক্ত৷ উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ পুরসভায় একটি গোশালা সংস্কারের শিলান্যাস, নিকাশি নালার উদ্বোধন, ইত্যাদি৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুগত হাজরা এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘‌মোদী সব জায়গায় যাচ্ছেন, প্রকল্প উদ্বোধন করছেন৷ শুধুই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন, এমনটা নয়৷ পুরনো প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন মোদীর আগে অনেকেই করেছেন৷’’

আর প্রবীণ সাংবাদিক ‌শরদ গুপ্তা বলছেন, ‘‌‘‌গত ৫ বছরে মোদী অনেক বড় বড় ঘোষণা করেছেন৷ খুব ভালো কাজ হয়েছে বলা যাবে না৷ আবার সড়ক, রেল, বিমান পরিসেবা, আয়ুষ্মান যোজনায় কাজ করেছেন৷ বেশিরভাগ কাজ হয়েছে গত এক বছরে৷ এটা সত্যি যে অনেক প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন৷ এইসব প্রকল্প কোন সরকার বাস্তবায়ন করবে, তা কারও জানা নেই৷’’

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *